স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর প্রতারণার অভিযোগ

চট্টগ্রামের এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার সুলতান মার্কেটের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুল এবং সুলতান মার্কেটের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ফ্লোরের সমান অংশিদারিত্ব দেওয়ার কথা বলে কয়েক দফায় প্রায় তিন কোটি হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ মাজহারুল হক। নিজের ব্যবসায়ীক দোকান ও সহায় সম্বল বিক্রি করে কয়েক দফায় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দেয়ার পর হতে গত ১১ বছরে ব্যবসার অংশিদারিত্ব পাওয়া তো দূরের কথা বিনিয়োগকৃত অর্থ ও কোন ধরনের লভ্যাংশও পায়নি। বরং বিনিয়োগের মূল টাকা ফেরত চাওয়ায় আমাকে উচ্ছেদসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ মাজহারুল হক।

ভুক্তভোগী জসিম বলেন, ২০১১ সালে বায়েজিদ বোস্তামি দরগাহ শরীফ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি থেকে সুলতান মার্কেটের প্রথম তলার উপর নিজ খরচে ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল হক। চুক্তি অনুযায়ী উক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুল পরিচালনা এবং বাকি ফ্লোরগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করবেন। ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সাথে এটি ছিল মূলত একটি ভাড়ার চুক্তি। এসময় পূর্ব পরিচয়রের সূত্র ধরে অধ্যক্ষ মাজহারুল হক স্কুল পরিচালনাসহ বাণিজ্যিক দোকান পরিচালনার জন্য আমাকে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন। এসময় তিনি তার পূর্ব পরিচিতি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আনিছুর রহমান মিঞা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও উন্নয়ন) মো. খালেদ মামুন চৌধুরী নামের দুই ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। কথিত এই দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমাকে মাজহারুল হক তাদের আত্মীয় দাবী করে তার সাথে টাকা বিনিয়োগে পরামর্শ দেন। একাজে বায়েজিদ এলাকার ব্যবসায়ী ইলিয়াছ হোসেনও মাজহারের পক্ষ নিয়ে টাকা বিনিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। সকলের কথায় সরল বিশ্বাসে টাকা বিনিয়োগে সম্মত হয়। শুরুতে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের অংশ থেকে ২০১১ সালের ২ জুন ৬ লাখ টাকা মাজহারুল হককে চেকমূলে প্রদান করা হয়। এসময় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ বাবদ প্রথম কিস্তির একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র লেখা হয় যাতে উল্লেখ করা হয় জসিমের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ এ টাকা নিচ্ছে। এ প্রাপ্তি স্বীকার পত্রে উক্ত কথিত দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছও স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এরপর বিভিন্ন তারিখে চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাজহারুল ভবনে স্কুল ও দোকান নির্মান করেন। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে মাজহারুল হক জসিমকে ২য় তলার ফ্লোর বুঝিয়ে দেয়ার সময় ভবনের মালিক পক্ষের সাথে চুক্তিপত্র করতে হবে বলে কয়েকটি অলিখিত স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেন। চুক্তিমতে ২য় তলার ফ্লোরে ১৯টি দোকান ঘর নির্ধারণ করে সেখানে আমার নিজ প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা দোকানের সার্টার,পা র্টিশান ওয়াল নির্মান ও ফ্লোরে টাইলস লাগানো, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়। এরমধ্যে ৮ টি দোকান বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আমার মাধ্যমে টাকা নিয়ে মাজহারুল হক নিয়ে যায়। ভবনের ২য় তলার ফ্লোর বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকে অধ্যক্ষ মাজহারুল হক ১৯টি দোকানের ভাড়া বাবদ ২০১৩ সালের নভেম্বর হতে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিনা রশিদে ৩০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরল বিশ্বাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও আমার সাথে লিখিত কোন চুক্তিপত্র করেননি ধূর্ত মাজহার। চুক্তির কথা বললে মাজহার বলতেন শেয়ার হোল্ডার নেয়া হয়েছে জানলে ভবনের মূল মালিক তথা ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ ইজারা বাতিল করবে। তাই সব কিছু গোপন রাখতে হবে। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে মাজহারুল হকের আসল রুপ ধরা পড়ে। আমি বিনিয়োগের টাকার সমান ভাগ এবং স্কুলের বিগত সময়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব চাইলে তিনি আজ দেবেন, কাল দেবেন বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর কোন ধরনের চুক্তিপত্র দেয়াসহ বিনিয়োগকৃত টাকা ও লভ্যাংশ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। উল্টো প্রশাসনের মাধ্যমে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে আমাকে বায়েজিদ থানা পুলিশ মামলা ছাড়া আটক করে নিয়ে যান। মাজহারুল হক পুলিশের সহায়তা নিয়ে আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন আমি অনেকটা নিঃস্ব। গত ৩ জানুয়ারি মাননীয় সিনিয়র সহকারী জজ ৫ম এর আদালতে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে সমন জারি করেছেন।

সিএনএ

 spankbang