মিথ্যা মামলাকরার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীতে সংগঠিত একটি মিথ্যা হত্যা মামলায় অন্য ইউনিয়নের ব্যবসায়ী , আইনজীবী , কৃষিবিদ ও চাকুরীজীবী ১০ জন নিরহ মানুষকে আসামি করে এলাকাছাড়া করার প্রতিবাদে রোববার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে সেলিনা বেগম বলেন-
আমার স্বামী তার দুই ভাই , আইনজীবী , কৃষিবিদসহ দশজন নিরহ মানুষকে একটি হত্যা মামলায় পরিকল্পিত ভাবে আসামী করে এলাকাছাড়া করা হয়েছে । প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য আমি একজন সাধারণ গৃহবধু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি ।

তিনি বলেন- আমার স্বামী মনিরুল আলম , পিতা- বীরমুক্তিযোদ্ধা কলিমউল্লাহ , সাং গুনাগরি , বাঁশখালী চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম শহরের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী । তার দুই ভাই চট্টগ্রামশহরে চাকুরিজীবী । গত ১২ ই মে ২০২০ ইং বাঁশখালী উপজেলাধীন ২ নং সাধনপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাদেক আলীর বাড়ীতে জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের আনিসকে নিহত জহির ড্রাইভার সহ তার পরিবারের লোকজন আতর্কিত হামলা করার সময় জহির ড্রাইভার নিহত হয় ।

ঘটনাস্থল ছিল সাধনপুর ইউনিয়নের সাদেক আলীর বাড়িতে । ঘটনার তিনদিনপর বাঁশখালী থানায় দায়েরকৃত বাঁশখালী থানার ২৩ ( ৫ ) ২০২০ নম্বর মামলায় আমার স্বামী মনিরুল আলম , তার ভাই নেজাম উদ্দিন , শহিদুল আলম ও প্রতিবেশি আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন তার ভাই মহিউদ্দিন হাসান , সরকারি কৃষি কর্মকর্তা নূরউল্লাহ , মোস্তফা , রাশেদ , মুবিন ও কালু দশজন নিরহ মানুষসহ ২৩ জনকে আসামী করা হয় । তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় নিজেদের বাড়ির পাশে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে আহত জহির ড্রাইভারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় । যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত । প্রকৃতপক্ষে আমার স্বামী , তার ভাই ও প্রতিবেশি নিরহ আসামীগনের বাড়ি ঘটনাস্থল সাধনপুর ইউনিয়ন থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণের কালিপুর ইউনিয়নে । কালিপুর ইউনিয়ন সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণে অবস্থিত । ঘটনাস্থলে নিহত জহির ড্রাইভারের মরদেহ উত্তরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে নিরহ মানুষদের কাঁসানার জন্য দক্ষিণের গুনাগরি এলাকায়
নিয়ে অভিযুক্ত আসামীদের ঘরের সামনের মহাসড়ক দিয়ে সিএনজি অটো রিক্সাতে করে বাঁশখালী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাজানো হয় ।

সেলিনা বেগম বলেন- নিহত জহির ড্রাইভারকে বাঁশখালী মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি বা কোন ডাক্তারকে দেখানো হয়নি । হাসপাতালের সামনে নিহত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় নিয়ে উক্ত মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে প্রতিক্ষারত অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় । পরের দিন থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয় , আহত জহির ড্রাইভারকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় নেজামের বাড়ির সামনে দ্বিতীয় দফা অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করে আহত জহির ড্রাইভারকে হত্যা করা হয় বলে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় ।

বিনাদোষে নিরিহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের আসামী করা হয় । অথচ আমার স্বামী চট্টগ্রাম শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী । তিনি দীর্ঘ ২ যুগ ধরে শহরে বসবাস করেন । আমার দেবর নেজাম উদ্দিন চট্টগ্রাম শহরের আছাদগঞ্জে এস . এম . চৌধুরী এন্ড ব্রাদার্স এ ২০ বছর ধরে কর্মরত ও আমার দেবর জাফর আহমদ ইয়ং ওয়ানে কর্মরত ছিলেন । তারা সবাই শহরে বসবাস করেন । তাছাড়া আমার স্বামী ও দেবররা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান । অথচ নিহত জহির ড্রাইভার ও তার পরিবারের সাথে আমার স্বামী ও দেবরদের কোন ধরনের পূর্ব শত্রুতা নাই এবং ছিলনা । ৩ য় পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে গরীব জহির ড্রাইভার পরিবারকে ব্যবহার করে মিথ্যা এজাহার তৈরি করে বাদীকে মিথ্যা প্ররোচনা দিয়ে আমার স্বামীসহ নিরপরাধ কালিপুরের উচ্চ শিক্ষিত লোকদেরকে আসামী করা হয়েছে।
এমতাবস্হায় পরিবারের উপার্জনক্ষম আমার স্বামী ও তার দুই ভাইসহ একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা মামলার আসামী করায় তারা ব্যবসা ও চাকরি করতে পারছে না । বীর মুক্তিযোদ্ধা কলিমুল্লাহর তিন সস্তান একটি সাজানো মিথ্যা মামলার পুরো পরিবারটি অসহায় ।

ভুক্তভোগী নারী সেলিনা বেগম আরো জানান-
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের আগে আমার স্বামী তার ভাই প্রতিবেশিগণ ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিল না । আসামী হিসাবে থানায় এজাহার দায়ের করার পর স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানতে পারি পূর্ব শত্রুতার ধারাবাহিকতাই বাক বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনার রেশ ধরে বিগত ১২/০৫/২০২০ তারিখে আনুমানিক সকাল ৭:৩০ টায় নিহত জহির ড্রাইভারের নেতৃত্বে তাদের ১২/১৪ জন লোক একই বাড়ীর ফজল আহম্মদের বাড়ীতে হামলা চালায় । ফজল আহম্মদের ছেলে পিকাপ চালক আনিসকে অতর্কিতভাবে এলোপাথারী যখম করে । প্রতিপক্ষের আনিসের সাথে মারামারির সময় নিহত জহিরড্রাইভার ঘটনার কিছুক্ষণ পরে নিজ বাড়ির আঙিনায় মারা যান ।

আমরাও চাই জহির ড্রাইভার হত্যা মালমার প্রকৃত আসামীদের সাজা হোক নিরাপরাধ মানুষ সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে নিরাপরাধ প্রমাণ হোক ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্হিত ছিলেন- ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে
আব্দুল মালেক, মোহাম্মদ ইসহাক, রাজিয়া সুলতানা, নিজাম উদ্দিন, নিহত জহির ড্রাইভারকে হাসপাতালে নিতে পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার পারভেজ প্রমূখ।

 spankbang