চট্টগ্রাম প্রবর্তক শিব মন্দিরে পালিত হলো শিবপূজো

দেবতাদের দেবতা শিবের পূজো। শিবভক্তদের কাছে মহা শিবরাত্রির গুরুত্ব অপরিসীম। ভক্তিভরে সব আচার-অনুষ্ঠান মেনে এই ব্রত পালন করলে মহাদেব সন্তুষ্ট হন,এটাই সনাতন ধর্মালম্বীদের দৃঢ় বিশ্বাস। এই ব্রত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হলো চট্টগ্রামের প্রর্বতকস্থ সুগন্ধা ১ নং রোডের শিবমন্দিরেও। দিনব্যাপী নানা আয়োজন ছিল। এতে শিব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পন্ডিত শ্রী অরুপ চক্রবর্ত্তীর পুজো পরিচালনা করেন। উক্ত মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হলেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। তরুন সমাজসেবক মন্টি চৌধুরীর সার্বিক পরিচালনায় সম্পন্ন হলো শিব রাত্রি ব্রতের পুজো,জগৎ কল্যাণের লক্ষে মাঙ্গলিক কর্মসূচী,শিব স্নান। এছাড়া আগত দুই সহস্রাধিক ভক্তবৃন্দদের অন্ন প্রসাদ ব্যবস্থাও। ভক্তবৃন্দের পদচারণায় মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গন। দেখা গেছে,সারিবদ্ধভাবে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ এবং পুরুষদের অন্ন প্রসাদ নিতে অপেক্ষা করতে। প্রসাদ দেওয়া শুরু হওয়ামাত্র পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন আগত ভক্তরা। এভাবে ভক্তদের আহার জুটিয়ে মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলো মন্দির পরিচালনা পরিষদ। এ নিয়ে মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন,সাধারণত পূজার পর ভক্তরা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। যার কারণে ভক্তদের পরম তৃপ্তি লাভের উদ্দেশ্যে প্রসাদ হিসেবে অন্ন ও নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীরা বিশ্বাস করে যে, শিবরাত্রিতে যথাযথ নিয়ম মেনে বিল্বপত্র সহযোগে পুজো করলে ভগবান তুষ্ট হন। পুজার পদ্ধতি অনুযায়ী, রাত্রে চার প্রহরে চারবার পুজো করতে হয় শিবলিঙ্গে। এমনকি প্রত্যেক প্রহরে স্নান ও অর্ঘ্যদানের সময় আলাদা আলাদা মন্ত্র পড়তে হয়। এই দিন স্নান করে পুজোর ঘরে প্রদীপ জ্বালান ভক্তরা। পরবর্তীতে শিব মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে গঙ্গার জল দিয়ে অভিষেক করা হয়। গঙ্গার জল না থাকলে পরিষ্কার জল দিয়েও অভিষেকের রীতি পালন করা যায়। পুজো করার পর আরতি করে, প্রদীপ জ্বেলে উপবাস রীতি পালন করেন ভক্তরা। এই দিন শিব ভক্তরা নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন। সংসার ও সম্পর্কে মঙ্গল কামনায় বহু যুগ ধরে এই রীতি পালিত হয়ে আসছে।

 spankbang