মইজ্জ্যারটেক টিআই মামুনকে চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহারের দাবী এলাকাবাসীর

চট্টগ্রামঃ মোটর সাইকেল আরোহী কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) এর বড়ভাইকে মামলা দেয়ার জের ধরে থানা পুলিশ- ট্রাফিক পুলিশে লঙ্কা কান্ড ঘটে গেছে। থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সংঘর্ষের উপক্রম হয়। রোববার বিকাল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশের পক্ষে যোগ দিয়েছে স্থানীয় লোকজন ও চাঁদাবাজির শিকার কয়েক’শ চালক। তারা ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর (টিআই) মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানায় এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক এলাকায় হেলমেট না থাকায় এক মোটর সাইকেল আরোহীকে থামান সার্জেন্ট সঞ্জয়। মোটর সাইকেল আরোহী নিজেকে কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) জোবাইর চৌধুরীর বড় বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি সেখানে থাকা টিআই মোস্তফা মামুকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সাজেন্ট সঞ্জয়কে মামলা দিতে নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে কর্ণফুলী থানার ওসি তদন্তের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এসআই দিদারুল আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স। তিনি গিয়ে টি আই মোস্তফা মামুনকে বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করেন। এতে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন মোস্তফা মামুন। এক পর্যায়ে ওসি (তদন্ত)র বড়ভাইকে চড়-থাপ্পড় মারতে তেড়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে তুমুল তর্ক-বির্তক হয়। এরমধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন ওসি (তদন্ত) জোবাইর চৌধুরী। তিনি টিআই মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু টিআই মোস্তফা মামুন নানা অশ্লীল মন্তব্য করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ জানায় স্থানীয় লোকজন ও গাড়ি চালকরা। তারা টিআই মোস্তফা মামুনের বিরুদ্ধে ‘তুই চাঁদাবাজ, তুই সন্ত্রাসী’ শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

উত্তেজনার এ পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) জোবাইর চৌধুরী ও এসআই দিদারুল আলমসহ চেকপোস্ট ও মোবাইল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি নগর পুলিশের ডিসিকে (বন্দর জোন) জানান কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) জোবাইর চৌধুরী। ডিসি বন্দর বিষয়টি এ ঘটনার জন্য টি আই মোস্তফা মামুনকে তিরস্কার করে সর্তক করেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে টিআই মোস্তফা মামুন বলেন, কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) বড়ভাই মোটর সাইকেলযোগে নগরে প্রবেশ করছিলেন। সার্জেন্ট সঞ্জয় ওই মোটর সাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় মামলা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন পুলিশের ভাই হলে কী হেলমেট ছাড়া চলাচল করতে পারবেন? তাকে আইনের আওতায় আনা কী অপরাধ। মামলা দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ওসি তদন্ত অবস্থান নিয়েছেন এবং জনগণকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ টিআই মোস্তফা মামুনের।
এব্যাপারে থানার ওসি (তদন্ত) জোবাইর চৌধুরীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ, টি আই মোস্তফা মামুন প্রায় যানবাহন চালকদের সঙ্গে অশ্লালীন ও মাস্তানের ন্যায় আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টিআই মোস্তফা মামুন ও তার সঙ্গে ডিউটিতে থাকা সার্জেন্টদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এখানকার গাড়ির চালক-মালিকরা। এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিটি ট্রাক,লরি, কাভার্ডভ্যান, মিনি ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকসা ও যাত্রীবাহি গাড়ি থেকে মাসোহারা আদায় করেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী মাসোহারা না দিলে গাড়ি জব্দ (টু) করা হয়। সেখানে সড়কের ওপর অবৈধভাবে বিভিন্ন গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*