Jpeg

ভাটিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরতি রায় এর বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

নন্দন রায়, সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ সীতাকুন্ড উপজেলার ৯ নং ইউনিয়নের ভাটিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরতি রায় এর বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন ভাটিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের সহকারী শিক্ষিকা আরতি রায়।তিনি ভাটিয়ারী এলাকার উমাকান্ত রায় বাড়ীর শ্যামাকান্ত রায় ও স্বর্গীয় ইছামতি রায়ের প্রথম মেয়ে সন্তান। ১৯৭৫ ইং সালে মাধ্যমিক পাশ করে এবং ১৯৭৮ সালে প্রাইমারী ট্রেনিং ( পিটিআই) শেষ করে ১৯৮২ সালের ২৯ শে জানুয়ারী ভাটিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিয়োজিত থেকেছেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টার সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ সেলিম এর সভাপতিত্বে উক্ত বিদায় অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি ছিলেন ৯ নং ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ নাজিম উদ্দিন। বিশেষ অথিতি ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জনাব হারুন আল রশিদ ও মোঃ আলাউদ্দিন, জনাব কামাল উদ্দিন মেম্বার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব গাজী হুমায়ুন কবির, প্রভাষক মোঃ নাজিম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা নুর জাহান বেগম। বক্তারা বলেন আরতি রায় একজন নিষ্ঠাবান নিবেদিত শিক্ষিকা হিসেবে বিদ্যালয়ে পাঠ দিয়ে গেছেন। প্রতিদিন সকালে সবার আগে বিদ্যালয়ের গেইট খুলে তিনি প্রবেশ করতেন এবং বিকালে ছুটির পরে সবার শেষে দরজা বন্ধ করে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করতেন। এলাকার অনেক গরীব-দুঃখী ছাত্র-ছাত্রীকে মমতা দিয়ে পাঠ দিয়েছেন। তাঁর মত গুনী শিক্ষকের অভাব বিদ্যালয়ে কখনো পূরণ হবেনা। এলাকার অভিভাবকগন তাদের ছেলেমেয়েদের যেকোন সমস্যায় আরতি রায়ের কাছে ছুটে গিয়ে পরামর্শ নিতেন। বিদ্যালয়ের ক্লাশ নেওয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তিনি একনিষ্ঠ ভাবে শেষ করতেন। এখন তিনি বিদায় নিচ্ছেন, আমরা কার কাছে গিয়ে পরামর্শ পাব জানিনা। আবেগাপ্লুত হয়ে বিদায়ী শিক্ষিকাআরতী রায় বলেন গরীব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফিও অনেক সময় আমি দিয়েছি, কারও খাতা-কলম না থাকলে আমি কিনে দিয়েছি। দূর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা পাঠ দিয়ে অগ্রসর করেছি। শিক্ষার্তীদের বেত দিয়ে না পিটিয়ে সহজ সরল ভাবে বুঝিয়েছি। এধরনের অনেক স্মৃতি কাল থেকে আমার অবসর জীবনে পীড়া দেবে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে আমার কোন ভূল হয়ে থাকলে আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নন্দন রায়, কামরুল ইসলাম দুলু, সাইফুল মাহামুদ,আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জাফর, মোঃ শাহরিয়ার চৌঃ, শিক্ষিকা তাজ নাহার বেগম, শিক্ষিকা সেলিনা বেগম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ সাইফুল, বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রমুখ।

 spankbang