কিশোর অপরাধ দমাতে ‘সারপ্রাইজিং’ চেকপোস্ট সিএমপি’র

 

চট্টগ্রাম নগরে আবারো বেড়ে গেছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। মূলত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতা করা রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’দের ছত্রছায়ায় আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। জড়াচ্ছে নানা অপরাধে।
তবে কিশোর অপরাধীদের লাগাম টানতে হার্ডলাইনে রয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানায়, নগরজুড়ে শতাধিক কিশোর অপরাধী গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের দমাতে ১৭টি স্থানে সারপ্রাইজিং চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চলছে। ১৭৮টি স্পটে চলছে ঝটিকা অভিযান।
সিএমপির তথ্যমতে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই কিশোর গ্যাং রয়েছে। নন্দনকানন, জামালখান, দামপাড়া, মেহেদীবাগ, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, কলেজ রোড, দেওয়ানবাজার, দেওয়ানজী পুকুরপাড় ও চন্দনপুরায় ১২টি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরা গত এক বছরে অন্তত ২০টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং, কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করছে তারা।
সূত্র জানায়, নগরীর নন্দনকানন এলাকার ২ নং গলিতে হত্যা মামলার আসামী অমিত মুহুরীর অনুসারী এমরান, রতন ও রাকিব তাদের নামে গ্যাং তৈরি করে ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধ করছে। আরেক হত্যা মামলার আসামি দামপাড়া বেটারিগলির তুষার গ্রুপের মোর্শেদ, আলী ফাহাদ ও সাব্বির ইয়াবা ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। এছাড়া চট্টেশ্বরী মোড়ে মুরাদ ও সোহেল স্কুল-কলেজ পড়–য়া মেয়েদের ইভটিজিং করে। কাজীর দেউড়ি ১নং গলির জুয়েল গ্রুপ চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ে জড়িত। লালখানবাজার এলাকায় মহিম গ্রুপের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মেহেদীবাগ ভিক্টোরি স্কুল থেকে গোলপাহাড় মোড়, শিল্পকলা একাডেমি ও জিসি মোড়ে ছিনতাই করে আরিফ গ্রুপের সদস্যরা। আরিফের নামেও চকবাজার থানায় ছিনতাইয়ের মামলা আছে।
এ প্রসঙ্গে সিএমপি’র অতিরিক্তি কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনেক কিশোরই চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত। রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়ার সময় যাত্রী বা পথচারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনারের পরিকল্পনায় আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চেকপোস্ট প্রতিদিন একই স্থানে বসবে না। ঝটিকা অভিযানও নিয়মিত একই জায়গায় পরিচালিত হবে না।’
তিনি আরও বলেন, রাত ৯টার পর কিশোর বয়সী যারা বাইরে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করে তাদের দেহ তল্লাশি করছি। কেউ সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ও আচরণ সন্দেহজনক হলে থানায় নিয়ে মা-বাবাকে ডাকছি। অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন। আর যদি কারও দেহ তল্লাশি করে কোনো অস্ত্র, ধারালো বস্তু বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গোয়েন্দা) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরের দক্ষিণ জোনে ৭৩টি আড্ডাস্থল চিহ্নিত করেছে পুলিশ। উত্তর জোনে আড্ডার স্থান ১০৫টি। এসব স্পটে নিয়মিত অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশিরভাগ আড্ডাস্থলে মাদক সেবন, বেচাকেনা, উঠতি কিশোরদের নিয়ে বড় ভাইদের আড্ডা, ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের চর্চা হয়। এ ছাড়া অলিগলিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মারামারি, খুনোখুনির পেছনে এসব আড্ডার প্রভাব রয়েছে।’

 spankbang