চট্টগ্রাম আদালত হামলার টার্গেট জঙ্গিদের

চট্টগ্রাম আদালত ভবনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় আস্তানা গড়ে ছিল জঙ্গিরা। এ পরিকল্পনার খবর জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) রাতে ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৭। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আস্তানা থেকে ২ মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল টিম ঢাকা থেকে এসে অভিযান শুরু করে ৫টি গ্রেনেড, একটি একে ২২, এবং ৩টি পিস্তল উদ্ধার করে। দুপুর ১২টায় শেষ হয় র‌্যাবের এ অভিযান।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৭) চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকার বিএসআরএম স্টিল মিল ও বারইয়ারহাটের মাঝামাঝি সোনাপাহাড় এলাকার বিএনপি নেতা মাজাহার চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘চৌধুরী ম্যানশন’ বাড়িটি ৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় জিএমবি সদস্য সোহেল। এখানে নারীসহ ৪ জন বসবাস শুরু করে।

মিমতানুর রহমান জানান, নিয়মানুসারে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় এনআইডি জমা নেওয়ার কথা। কিন্তু সোহেলকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় এনআইডি নেওয়া হয়নি। তাই বাড়ির মালিক, কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়া জঙ্গিদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাদের গুলিবিনিময় হয়। এ সময় বাড়ির ভেতরে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। পরে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল টিম (বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল) আসে। তারা সকাল ৯টার দিকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে বোমা ও গুলি উদ্ধার করে। দুপুর ১২টায় এ অভিযান শেষ করা হয়।

তিনি আরও জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে তারা কয়েকদিনের মধ্যেই চট্টগ্রামের আদালত ভবনে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। নিহত ব্যক্তিরা জামাত-উল মুজাহেদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলেও জানান তিনি।

 spankbang