বাংলাদেশের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিঃ ভারতের অভ্যন্তরীন জাহাজ নির্মানে প্রযুক্তি বিনিয়োগ চুক্তিবদ্ধ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থা শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম জাহাজ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের একটি গঙট স্বাক্ষরিত হয়েছে গতকাল বুধবার (৬ জুন)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভারতের “ জাতীয় নদী পথ এক” এ আগামী দশ বছর ৬০টি জাহাজ চলাচলের লক্ষ্যমাত্র নিয়েছে। সে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্যই দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। গতকাল সন্ধায় কলকাতার ময়দানে এক বিশেষ আয়োজনের মধ্যদিয়ে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এবং শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোমদেব চট্টোপাধ্যায় এই গঙট -তে স্বাক্ষর করেন। কলকাতা থেকে হলদিয়া ভায়া ফারাক্কা বারাসনি পর্যন্ত ভারতের “ জাতীয় নদী পথ এক” সচল করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান ও ওয়েস্টর্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের পরিচালক ক্যাপ্টেইন ফজলে রাব্বী উপস্থিত ছিলেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির জাতীয় চারটি নদী পথে আগামী দশ বছরে ৬০০টি জাহাজ নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের “ জাতীয় নদী পথ এক” ৬০টি জাহাজ চালাবে রাজ্য সরকার। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজ্য সরকারের শালিমারের সঙ্গে যে গঙট স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটা ভারতের জাতীয় অভ্যন্তারীন নদী পথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া ওই বিশাল প্রকল্পের টেন্ডারের অংশ নেওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। পশ্চিমবঙ্গের শালিমারের সঙ্গে বাংলাদেশের তার প্রতিষ্ঠানের ২৬/৭৪ শতাংশ হিসাবে অংশিদারিত্ব থাকবে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড মূলত প্রযুক্তি বিনিয়োগ করবে। পরিকাঠামো দেবে শালিমার তিনি এও যোগ করেন। ৬০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টনের জাহাজ গুলোর এক একটি জাহাজ নির্মাণ ব্যয় ৫ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ হবে। সে হিসাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রেক্ষিতে লাভ-ক্ষতিও ভাগাভাগি হবে। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ধুকছে। ভারত সকারের দেওয়া জাতীয় টেন্ডারে অংশ নিতে হলে তাদের যে পরিমান প্রযুক্তি দরকার সেটা নেই। অন্যদিকে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি জাহাজ নির্মাণ করা এবং ৩১টি জাহাজ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করার মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। দুটি প্রতিষ্টানের চুক্তির ফলে শালিমার যেমন ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে, একই ভাবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটির ভারতের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বাংলাদেশের রাজস্বও খাতে বড় ধরণের প্রভাব পড়বে এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*