রাগ আয়ু কমায়

সিএনএ নিউজ ডেস্ক : ট্রাফিক জ্যামে পড়ে আপনার রাগের চোটে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলেন? অফিসে সহকর্মীদের উপর সব সময়ই চটে থাকেন? বাচ্চাদের আহ্লাদ-আবদারে মেজাজটা চড়ে যায়?
এমন স্বভাব বদলানোটাই ভালো। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আয়ওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে বিপজ্জনক তথ্য। প্রায় চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বয়সের ১হাজার তিনশোরও বেশি পুরুষের ওপর সমীক্ষা চালান তারা। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ মানুষ সবচেয়ে রাগী। দেখা গিয়েছে অন্যান্যদের তুলনায় এদের প্রাণহানির আশঙ্কা ১.৫৭ গুণ বেশি।
প্রায় ৪০ বছর ধরে এ গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হত আপনি কি প্রায়ই রেগে থাকেন? সে সময় তাদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে। ৩৫ বছর পরে আবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেখা যায় পূর্ববর্তী প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ বলেছিলেন, অন্যদের তুলনায় তাঁরা আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। অবশ্য সমীক্ষাটিতে রাগের সঙ্গে বৈবাহিক অবস্থা, ধূমপান, আয় ইত্যাদি বিষয়ের কথাও বিবেচনা করা হয়েছিল।
গবেষক এই দলটিই প্রধান অ্যামেলিয়া ক্যারাকারের জানিয়েছেন, সব সময়ই রেগে থাকেন এমন মানুষ আছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাগ নিয়ন্ত্রণে না রাখার ফলে রক্তচাপ ও হৃৎপিণ্ডের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাগ ও বিদ্বেষ কীভাবে হৃৎপিণ্ডের গতিতে ছন্দপতন ঘটায়। অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বলা হয় একে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কিন্তু সচরাচর এমনটা হতে দেখা যায় না। অর্থাৎ রেগে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি পুরুষদেরই বেশি।
যাঁরা এ খবর পড়ে চিন্তায় রয়েছেন, তাদের জন্য তথ্য হচ্ছে, অনেক গবেষণাতে এমনও দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখাটাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষ করে, কেউ যদি মনে করেন তার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে এবং সেই কারণবশত রাগ হচ্ছে।
তাহলে কী রাগ হলে প্রকাশ করে ফেলাটাই ভালো? গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত তাই। তবে রাগের প্রকাশ মাঝে মধ্যে হলে এবং খুব দ্রুতই আবার মন ভালো হয়ে গেলে তবেই সেটা সুস্থতার লক্ষণ। কথায় কথায় রেগে গিয়ে পৃথিবী মাথায় তুলে ফেলাটা মোটে ভালো অভ্যেস নয়। ক্যারাকারের মতে, রাগ মাপার আধুনিক নানা স্কেল ব্যবহার করে সম্ভবত তাঁদের গবেষণার চাইতেও বেশি তথ্য পাওয়া যাবে। আবার ঠিক কতখানি সময় ধরে রেগে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি এতে। তবু রাগ আপনার জন্য ক্ষতিই ডেকে আনবে তাতে সন্দেহ নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*