ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করে ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম জনপ্রিয় ভিশন বা রূপকল্প ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অনেকেই তখন এ ঘোষণাকে শস্তা শ্লোগান বলে অভিহিত করার প্রয়াস চালান। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ ২০১৭ সালে এসে, একটি বাস্তবতা। এটি স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছার কল্পলোক নয়, আর। সরকারের সকল খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগে সকল কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও হচ্ছে দ্রুততম সময়ে। সকল প্রকার সেবা পৌঁছে যাচ্ছে, সর্বস্তরের মানুষের দোর গোড়ায়। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে তথ্য-প্রযুক্তি বা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি শিখন-শেখানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অনেক আগেই। বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক কলা-কৌশল প্রয়োগ চলছে বিগত ৬/৭ বছর ধরে। বিশেষত: প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যকটিতে মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছর ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে হয়ত ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতে লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন পৌঁছে যাবে। আর প্রত্যেক বিদ্যালয়ে অন্তত: ৪ জন করে শিক্ষক/শিক্ষিকা আইসিটি প্রশিক্ষণ পেয়ে যাবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগনকে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে শিক্ষক বাতায়ন কোলা হয়েছে। শিক্ষকগণ এ ওয়েভসাইটে হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করে রেখেছেন। দেশ-বিদেশে যে কোন প্রান্তে এ ভিডিওগুলো সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যায়।এভাবে চলতে থাকলে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষাঙ্গনে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদানের ক্ষেতে একটি মহা বিল্পব সাধিত হবে। আর শিক্ষার মানে আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া লেগে সোনার বাংলায় সোনার মানুষ দলে দলে তৈরি হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্ম হয়ে যাবে বিশ্ব মানের উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত মানব সম্পদ। সেদিনের অপেক্ষায় আমরা সবাই অপেক্ষমান।
ডিজিটাল আইল্যান্ড কর্মসূচি এবং বাংলাদেশর প্রাথমিক শিক্ষা স্তর: প্রাথমিক স্তরে দশটি (১০টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ০২টি সরকার নিয়ন্ত্রিত সিনিয়র মাদ্রাসাকে উচ্চ ক্ষমতার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দূর শিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্প্রচার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো; ১. মহেশখালী মডেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২. বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩. আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪. সিপাহীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫. পশ্চিম ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬. ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭. গোরকঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮. মুন্সিরডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯. নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০. মধূয়ারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাদ্রসা দুটি হলো; পুটিবিলা তৈয়বিয়া ফিাজিল মাদ্রাসা ও আহমদিয়া তৈয়বিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। ‘জাগো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ সংস্থার সহায়তায় ০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ; যথাক্রমে আদিনাথ, বার্মিজ ও ফকিরাঘোনায় ইতোমধ্যে ‘দূর শিক্ষণ’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা শুরু করা হয়েছে।

মহেশখালীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটি-এর প্রয়োগ: বর্তমানে মহেশখালী উপজেলায় ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে আরও ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলো নির্মাণাধীন। আগামী বছরের শুরুতে এগুলোতে শ্রেণি পাঠদান কাজ শুরু হবে। মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্রালয়ের সংখ্যা হবে ৭১ টি। আরও ১০ টি গ্রামে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে।এখানকার ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে। কর্মরত ৪০০ জন শিক্ষক শিক্ষকার মধ্যে ১২০ জন মত শিক্ষক/শিক্ষিকা আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়না বলে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হলে এবং ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকর্পের আওতায় উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হলে মহেশখালী প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চালু করা যাবে।পাল্টে যাবে প্রাথমিক শিক্ষা চিত্র। সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

লেখক মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্ শিক্ষা অফিসার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*