পুলিশ গাড়ি আটক করলে কী করবেন

প্রত্যক গাড়ির মালিক ও চালক কে আইন যথাযথভাবে মেনে গাড়ি চালানো উচিত। সড়ক দূর্ঘটনা, অপরাধজনক মাল পরিবহন, পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, অপরাধ কার্যে ব্যবহার, মামলার আলামত, ট্রাফিক আইন ভাঙাসহ নানা কারণেই পুলিশ গাড়ি আটক করতে পারে।  অনেক সময় কাগজপত্র সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও সন্দেহজনকভাবে পুলিশ আপনার গাড়ি আটক করতে পারে।  পুলিশের নিকট হতে গাড়ি ছাড়িয়ে আনা বেশ ঝামেলার কাজ মনে করেন অনেকে। এমন কি অনেকে মনে করেন পুলিশ শুধু শুধু তার গাড়ী আটক করে রেখেছে।  ইচ্ছা করে আপনার জিম্মার দিচ্ছে না।  কারণে বা বিনা কারণে যা-ই হোক না কেন গাড়ি আটক হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে খুব সহজেই গাড়িটি ছাড়িয়ে নেয়া যায়।  আসুন জানি কিভাবে-

থানা পুলিশ গাড়ি আটক কি করণীয়ঃ-

সড়ক দূঘটনা, অপরাধ জনক মাল পরিবহন, পরিত্যাক্ত অবস্থায় গাড়ী উদ্ধার, অপরাধ কার্যে ব্যবহার গাড়ী, মামলার আলামত, সন্দেহজনক কারণে কিংবা নির্দিষ্ট অভিযোগে থানা পুলিশ গাড়ি জব্দতালিকা মুলে গাড়ী আটক করেন। উক্ত জব্দতালিকার মূলকপি থানা পুলিশ বিজ্ঞ আদালেত প্রেরন করেন। আপনি চাইলে থানা পুলিশ জব্দতালিকার একটি কপি আপনাকে দিবে। গাড়ি থানা পুলিশ আটক করলে বা থানায় কোনো মামলা হলে গাড়িটি নিজের জিম্মায় নিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা যায়।  এজন্য প্রথমেই থানা/আদালত থেকে মামলার এজাহারের ফটোকপি তুলতে হবে।  সেই সঙ্গে গাড়ির নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে।  আপনার গাড়ী জিম্মা পাওয়ার জন্য একজন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করতে হবে।  প্রথম দিনে আবেদন শুনানির পর সাধারণত আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আই.ও) বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) থেকে গাড়ির মালিকানা নিরূপণ করে কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। আদালতের আদেশ সাধারণত পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যায়।  থানায় যোগাযোগ করে কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেটা জেনে নিতে হবে, গাড়ীর মালিকানা স্ংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করতে হবে।  যেন আপনি গাড়ীটির মালিক এ্ই সংক্রান্তে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন অতি সত্বর থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করেন। প্রতিবেদন থানা থেকে আদালতে পাঠানো হলে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি দরখাস্ত দিয়ে আদালতকে অবহিত করবেন যে থানা হতে গাড়ীর মালিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রেরন করা হয়েছে। শুনানির সময় আদালতের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত বিআরটিএ প্রতিবেদন, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও আইনজীবীর শুনানিতে সন্তুষ্ট হলে থানা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেবেন আটক গাড়িটি আপনার জিম্মায় দেওয়ার জন্য। পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশ মতো  তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে গাড়ি নিজের জিম্মায় নিতে পারবেন এই শর্তে যে পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আপনি গাড়ীটি আদালত/থানায় হাজির করবেন। এভাবে গাড়িটি জিম্মায় নিতে প্রায় ১৫দিন সময় লাগতে পারে। আবার আপনি যদি মনে করেন গাড়িটি অহেতুক আটক করা হয়েছে, সে সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো কারণে আদালতের আদেশ সঠিক মনে না হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার আপনার রয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটক কি করণীয়ঃ

ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটক করার সময় পুলিশ আপনাকে একটি রসিদ দেবে। পুলিশের দেওয়া রসিদের পেছনেই লেখা থাকবে কোন জোনের ট্রাফিক পুলিশ আপনার গাড়িটি আটক করলেন। আপনাকে সেই জোনের অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। কোথায়, কী অপরাধে জরিমানা করা হলো, কে জরিমানা করলেন, কত তারিখের মধ্যে হাজির হতে হবে—সবকিছুই লিখে দেওয়া হয় রসিদটিতে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা হলে আপনি এম-ক্যাস/বিকাশ এর মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তা জরিমানা নির্ধারণের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে থাকেন। স্ংশ্লিষ্ট ডিসি/এসপি সাহেব বা তার নিকট হতে ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্মকর্তা পূর্ণ জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারণ করতে পারেন, এমনকি জরিমানা মওকুফও করে দিতে পারেন। তবে জরিমানা না দিলে বা যথাসময়ে হাজির না হলে অপরাধের ধরন, ঘটনাস্থল ইত্যাদির প্রতিবেদন সহকারে মামলাটি আদালতে পাঠানো হতে পারে। আদালতে পাঠানো হলে আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি হতে পারে। আদালতে মামলাটি পাঠানো হলে আদালতে হাজির হয়ে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এ জন্য মোটরযান মামলা সংক্রান্ত শাখা রয়েছে। এ শাখায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। আদালতের কোন আদেশ অমান্য করা উচিত নয়। তা না হলে ঝামেলা বাড়ার আশঙ্কা বেশি। অনেক সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে দোষ স্বীকার করলে শাস্তির পরিমাণ কম হওয়ার সুযোগ থাকে। মোটরযান সংক্রান্ত মামলায় সাধারণত জরিমানা হয়ে থাকে। এ জরিমানার টাকা আদালতে জমা দিলে মামলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

জনসচেতনায়- মোঃ সাব্বির রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 spankbang