তোমার যুগল ছায়াপথে দেখি আমার মৃত্যু-ছায়া! – অনিন্দ্য টিটো


একটি ছায়া। না, ঠিক যেন ছায়া নয়; ছায়ার মত!
কাল রাতে বুকের কাছে ফিসফিসিয়ে জানতে চাইল-
‘তোমার কি কোন কারণে মন খারাপ…?’
বললাম- না তো! আমি তো বেশ ভাল-ই আছি!
জমকালো আঁধারেতে বুকের ব্যথাতে মৃত-প্রাণে বাঁচি
সুখের পায়েতে উঁচু মাথা করে নত, অবিরাম অবিরত।
প্রকৃতির আগাম বার্তাপ্রেরক একটি বুড়ো কাক
উড়ে যেতে যেতে বলে যায় প্রাণের পরেতে ভোরের আলোছায়াতে-
গেল গেল রসাতলে গেল, প্রেম প্রেম করে সমস্ত এই বিশ্বসংসার
মাঠ-ঘাট, মেঠোপথ, ভরা-ক্ষেত, সম্ভাবনার সম্ভার, সবুজ প্রান্তর
জীবনবাজির সবটুকু আনন্দ আয়োজন!
উল্কা হয়ে খসে পড়ে প্রেম নিশুতি কোন রাতে
প্রেমিক আকাশের মনে পড়ে কি? সাথী ছিল প্রেম কোন প্রভাতেতে;
খোলা হাওয়ার চমকানো দমকায় নিমিষে উড়ে যায় শান্তির আধার
কালের স্রোতে ভেসে ভেসে এসে প্রেমের মেঘদূত বনে যায় যমদূত
কেড়ে নেয় প্রেমিক ইতিহাসের পুরাণ-পণ।
চায়ের আড্ডার যুক্তি-তর্কে, গল্প-কবিতায়, রং-তুলিতে, নাচে গানে;
চলে রাজনীতির প্রেম, প্রেমের রাজনীতি হনহনিয়ে প্রাণ থেকে প্রাণে।
প্রেমিক প্রেমিকা জোর কদমে চলে, বলে কই তুমি কই?
দেখে যাও তোমার জন্য লিখেছি কতশত কবিতার বই!
নিয়তির আদালতের একটি আদেশেই প্রেম হয়ে যায় নিষিদ্ধ মায়া।
একটি ছায়া। না, ঠিক যেন ছায়া নয়; ছায়ার মত এসে বুকেতে
বলে যায় ফিসফিসিয়ে-
অমানিশার আকাশেতে তোমার যখন ফোটে আঁধারের খৈ;
পূর্নিমার আকাশখানিতে আমার তখন জোছনা করে থৈ থৈ!
বসন্ত প্রেমে তোমার যুগল ছায়াপথে দেখি আমি আমার মৃত্যু-ছায়া!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*