ভারতীয় নারী ১৮ বছর বেঁচে আছেন চা পান করেই

ভারতীয় নারী  ১৮ বছর বেঁচে আছেন চা পান করেই                                                                                                                          চট্টগ্রাম নিউজ এজেন্সী:: এক ভারতীয় নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। গত ১৮ বছর তিনি নাকি কোনো খাবারই খান না, শুধু ব্ল্যাক টি (এক ধরনের কালো চা) পান করে বেঁচে রয়েছেন। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কেবল চা পান করে কোনো মানুষের এতটা দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা অসম্ভব।

পেলি বাই নামক ৪৮ বছরের ওই নারীকে ঘিরে তাই তুমুল বিস্ময়ে পড়েছেন চিকিৎসকসহ সকলেই। পেলি সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ব্ল্যাক টি ওম্যান (কালো চায়ের নারী)’ হিসেবে।

ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পেলি বাই ভারতের ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলার বাসিন্দা। দেড়যুগ আগে পাটানায় পড়ালেখা করতে যাওয়ার পর থেকেই কোনো কিছু না খেয়ে কেবল ব্ল্যাক টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠে পেলির। এরপর থেকে নিয়মিতই কোনো খাবার গ্রহণ করে না সে। কেবল প্রতিদিন কয়েক কাপ ব্ল্যাক টি পান করে।

পেলির এমন স্বভাব দেখে তার পরিবারের লোকজনের ধারণা হয়েছিল অশুভ কোনো আত্মা হয়তো তার ওপর ভর করেছে। যে কারণে ভূত ছাড়ানো ওঝার দারস্থ হয়েছিলেন তারা। কিন্তু তাতে করে পেলির অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাই এটিকে বিরল কোনো রোগ ভেবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা।

পেলির এই ঘটনা শুনে বিস্মিতই হয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বিস্ময়ের মাত্রা আরও বেড়েছে যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছেন যে পেলি পুরোপুরি সুস্থ-স্বাভাবিক এবং তার শরীরের ওজন ৪৫ কেজি। ১৮ বছর কোনো খাবার না খেয়ে একজন মানুষের শরীরের ওজন এই পরিমাণ থাকার কথা নয়। অন্তত চিকিৎসা বিজ্ঞান তাই বলে।

এই বিষয়ে সেখানকার বৈকুণ্ঠপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিবিৎসক রাকেশ শর্মা বলেছেন, ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অসম্ভব ঘটনা। কেবল ব্ল্যাক টি পান করে একজন মানুষ ১৮ বছর বেঁচে রয়েছে, বিজ্ঞানে এর ব্যাখা পাওয়া মুশকিল। পেলি সুস্থ-স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে রয়েছেন। কেবল মাঝে মাঝে খাবারের অভাবে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। তখন পরিবারের লোকেরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসে এবং আমরা তাকে শরীরে শক্তিপ্রদানকারী ইঞ্জেকশন দেই। আমাদের হাসপাতালে পেলি বাই ব্ল্যাক টি ওম্যান বলে পরিচিতি পেয়েছেন।’

এদিকে, পেলিদের গ্র্রামের জনপদ সদস্য বিহারি রাজওয়াদে মিডিয়াকে বলেছেন, ‘পেলি সুস্থ-স্বাভাবিক নারী এবং সে খুবই ধর্মপরায়ণ। আমি তাকে বহু বছর ধরে দেখছি। সে খালি পায়ে হাঁটাচলা করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বহু চিকিৎসকের কাছে নিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা পেলিকে সুস্থ-স্বাভাবিক বলেই মত দিয়েছেন।’

দেড়যুগ ধরে এই চা পান করে বেঁচে থাকার কারণে সংসার করা হয়নি পেলির। ১৯৯৫ সালে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু এমন বিজাতীয় স্বভাব দেখে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বিয়ের পরদিনই তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সেখানেই বাস করেন পেলি বাই। তার স্বামী প্রায়ই তাকে দেখতে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

 spankbang