ছাত্রলীগ নেতা রনির জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদকছাত্রলীগ নেতা রনির জামিন
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দণ্ডিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এক জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টে রনির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দেয়া কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে রনি আগেই জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়ায় রণির মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
গত ৭ মে বেলা সোয়া ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর থেকে নির্বাচনে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রনিসহ নয়জনকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় রনির কাছে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমে তথ্য দেয় বিজিবি। এরপর তাদের হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রনিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০১৬ এর দুটি ধারায় এক বছর করে মোট দুই বছর কারাদণ্ড দেন। পরদিন সকালে রনিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া রনির বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত রনিকে আটকের সময় পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও শারীরিক লাঞ্চনার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার দিন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রনির মুক্তির দাবিতে রাজপথে নামে ছাত্রলীগ।
গত ২৫ মে কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল মামলায় রনিকে জামিন দেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ। তবে অস্ত্র মামলায় জামিন নামঞ্জুর করা হয়।
এরপর রনির পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। রনি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেফতারের দুই মাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন রনি।
নূরুল আজিম রনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

 spankbang